ভোটাধিকার প্রতিষ্ া ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়নের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান | -1 | উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বাম জোট | SAHIFAT ASSALAM PALESTINE 

Eduardo Ruman (In Memoriam)
Diretor-Presidente
Administrativo e Empreendedor
Denise Ruman
MTB - 0086489
JORNALISTA RESPONSÁVEL
The Biggest and Best International Newspaper for World Peace
BRANCH OFFICE OF THE NEWSPAPER "PACIFIST JOURNAL" in PALESTINE
Founder, President And International General Chief-Director / Founder, President And International General Chief-Director :  Denise Ruman - MTB: 0086489 / SP-BRAZIL
Local Chief-Director - Palestine / Local Chief-Director - Palestine :  OSAMA RBAYAH
Mentor of the Newspaper / Mentor of the Newspaper  :  José Cardoso Salvador (in memoriam)
Mentor-Director / Mentor-Director  :  Mahavátar Babají (in memoriam)

-1 / 27/02/2019

উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বাম জোট

ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়নের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান

0 votes
উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বাম জোট ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়নের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান

বাম গণতান্ত্রিক জোট ( ছবি: রতন কুমার দাস )

উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বাম জোট
ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়নের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান

আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, সকাল সাড়ে ১১টায় মৈত্রী মিলনায়তন, মুক্তিভবন এ অনুষ্ঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোটের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শাসকশ্রেণি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিভাবে নির্বাচনের ইতিহাসে বিকৃতির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। ভোট কারচুপি, জালিয়াতি, ইঞ্জিনিয়ারিং, মিডিয়া ক্যু ইত্যাদি সকল বিষয়কে ছাপিয়ে এটি ছিল ভোটের আগের রাতে ভোট বাক্স ভরে রাখার এক নতুন কীর্তি।
এই কলংকিত নির্বাচনের দগদগে ঘা শুকানোর আগেই এবং জনগণের ভোটাধিকার কোনরূপ নিশ্চিত না করেই এখন উপজেলা নির্বাচনের আয়োজন চলছে। পর্যায়ক্রমিক দিন তারিখও ঠিক হচ্ছে। এ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, গত একাদশ সংসদ নির্বাচন যেভাবে হয়েছে আগামী নির্বাচনও সেভাবেই অনুষ্ঠিত হবে। পিলে চমকে যাবার মতো কথা! আমরা আরও একটি প্রহসন ও তামাশার খেলায় সামিল হতে চাইনা বিধায় এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জনগণের অংশগ্রহণে স্থানীয় স্বশাসনের বিভিন্ন স্তরের সংস্থার প্রচলন আমাদের সমাজে দীর্ঘদিনের। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা এসব সংস্থাকে বারবার ব্যবহার করেছে তাদের ক্ষমতার ‘খুঁটি’ হিসেবে কাজে লাগানোর জন্য। সংবিধানে স্বশাসিত ‘স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা’ লিখিতভাবে স্বীকৃতি পেলেও, স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও শাসক শ্রেণি এখন পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন করেনি। সংবিধানের ৩য় পরিচ্ছেদের অনুচ্ছেদ ৫৯/৬০ ধারা মতে ইংরেজিতে খড়পধষ এড়াবৎহসবহঃ বলা হলেও বাংলা করা হয়েছে ‘স্থানীয় শাসন’। তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের ক্ষমতায়ন সম্ভব করার জন্য প্রয়োজন স্থানীয় সরকার। কিন্তু বিভাগীয় পর্যায়ে কোন জনপ্রতিনিধিত্ব নেই। জেলায় প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নাই। উপজেলায়, ইউনিয়নে নির্বাচিত শাসন কাঠামো অসম্পূর্ণ এবং স্বায়ত্ত্বশাসিত হওয়ার বদলে আমলানির্ভল। এগুলো পার্লামেন্টারি পদ্ধতির সঙ্গেও অসঙ্গতিপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, একদিকে স্থানীয় সরকারের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট পাওয়া যায় না। অন্যদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আমলা-প্রশাসন-এই দুই তরফের খবরদারি-নিয়ন্ত্রণ এসব সংস্থার কর্তৃত্বকে জরবদখল করে রেখেছে। স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন ও স্থানীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতীয় বাজেটের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ স্থানীয় সরকারের জন্য সংবিধিবদ্ধভাবে বরাদ্দ রাখার বিধান করা, সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণের মতামত নিয়ে তৃণমূল থেকে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রক্রিয়া চালু করা, সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং কঠোর হাতে সব স্তরে দুর্নীতি বন্ধ করার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার-ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন ও রাষ্ট্র-প্রশাসনের গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের জন্য এসব পদক্ষেপ অপরিহার্য।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ। উপস্থিত ছিলেন আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন, রুহীন হোসেন প্রিন্স, রাজেকুজ্জামান রতন, শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, আকবার খান, বাচ্চু ভূইয়া, হামিদুল হক, লিয়াকত হোসেন, নজরুল ইসলাম, মানস নন্দী, জুলফিকার আলী, নজিব সরকার রতন, মজিবুর রহমান প্রমুখ।
সংবাদ সম্লেনে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়নের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সংবাদ সম্মেলন
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, সকাল ১১টা, মৈত্রী মিলনায়তন, মুক্তিভবন
২ কমরেড মণি সিংহ সড়ক, পুরানা পল্টন, ঢাকা।

ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্থানীয় সরকারের
ক্ষমতায়নের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলুন

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
বাম গণতান্ত্রিক জোট এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আমাদের বক্তব্য প্রচারের উদ্দেশ্যে আজকের এই সংবাদ সম্মেলন। আমরা শুরুতেই সরকারি দায়িত্বহীনতার কারণে গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রতি শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। ২০১০ সালে নিমতলী অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জন নিহত হওয়ার পর হাইকোর্ট ৩ মাসের মধ্যে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটিকে অবৈধ স্থাপনাসহ সকল অনিয়মের রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিল। রিপোর্ট আদালতে জমা না হলেও তদন্ত কমিটির ১৭ দফা সুপারিশ ছিল। তা বাস্তবায়ন করলে আজ হয়তো এ ভয়াবহ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটতো না। আমরা নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ও আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনসহ প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি করছি। এবং দায়িদের শাস্তি ও দ্রুত দাহ্য পদার্থের গোডাউন-কারখানা পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
প্রিয় দেশবাসী,
আপনারা দেখেছেন শাসকশ্রেণি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিভাবে নির্বাচনের ইতিহাসে বিকৃতির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। ভোট কারচুপি, জালিয়াতি, ইঞ্জিনিয়ারিং, মিডিয়া ক্যু ইত্যাদি সকল বিষয়কে ছাপিয়ে এটি ছিল ভোটের আগের রাতে ভোট বাক্স ভরে রাখার এক নতুন কীর্তি। এ বিষয়ে নির্বাচনের দিনই আমাদের অভিযোগ আমরা তুলে ধরেছি এবং একশত একত্রিশটি আসনের আমাদের প্রার্থীরা ১১ জানুয়ারি ২০১৯ তাদের সরেজমিন অভিজ্ঞতা গণশুনানীতে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন। সর্বমহলে এ বিষয়টি আজ এতো পরিষ্কার যে ভোট ডাকাতির বিষয়টি প্রায় বিতর্কের উর্ধ্বে চলে গেছে। সরকারি জোটভুক্ত কোনো কোনো দলও খোলামেলা বিষয়টি তুলছেন। তাদের অনেকেই বিব্রত। নির্বাচন কমিশন, আইন-আদালত, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, আমলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের সংগঠন, কায়েমী স্বার্থবাদী সকল চক্রসহ দলীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মিলে যেভাবে জনঅধিকার হরণের মতো একটা গর্হিত কাজে একযোগে লিপ্ত হতে দেখা গেছে, তা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার, সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চেতনা, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিকে চরমভাবে আঘাত করেছে। শাসন-প্রশাসন ব্যবস্থাকে চরমভাবে অচল, অকার্যকর, বিকৃত ও কালিমালিপ্ত করে দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির দানবীয় চেহারা প্রদর্শন করেছে। রাজনীতির অঙ্গনে নীতিনিষ্ঠ মানুষদেরকে কোনঠাসা করে ফেলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্যকে দেখা গেছে কিছুটা পরিমাণে সঠিক চিত্র উপস্থাপন করার চেষ্টা করতে কিন্তু সরকারি মদদ ও সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তার বক্তব্যকে ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে। কলঙ্ক ঢাকতে উপজেলা নির্বাচন, আদালতের রায়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বন্ধ রাখার পর হঠাৎ করে আবার শাসক দলের ইচ্ছায় দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন, ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন, নদী দখলসহ দখল উচ্ছেদ অভিযান, দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী অভিযান ইত্যাদি কার্যক্রম এর তোরজোড় শুরু করেছে। এগুলো বহুদিনের মানুষের চাওয়া ও জোরালো দাবি ছিল কিন্তু সরকার এতোদিন এসব বিষয়ে গা লাগায়নি। এখন লোক দেখানো কিছু প্রদর্শনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের ‘ভুয়া ভোটের’ অপরাধ অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বরের নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির অপরাধ থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
প্রিয় বন্ধুগণ,
এখন উপজেলা নির্বাচনের আয়োজন চলছে। পর্যায়ক্রমিক দিন তারিখও ঠিক হচ্ছে। এ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, গত একাদশ সংসদ নির্বাচন যেভাবে হয়েছে আগামী নির্বাচনও সেভাবেই অনুষ্ঠিত হবে। পিলে চমকে যাবার মতো কথা! আমরা আরও একটি প্রহসন ও তামাশার খেলায় সামিল হতে চাইনা বিধায় এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছি। স্থানীয় নির্বাচনে সাধারণত সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যমুখর পরিবেশে উৎসাহ-উদ্দীপনার আবহ রচিত হয়। কিন্তু এবার শাসক দলভুক্তদের মধ্যে হরিলুটের উত্তেজনার বাইরে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনাগ্রহমূলক মুখচ্ছবি ও ভোটাধিকার হরণের জ্বালায় তীব্র ক্ষোভ ক্রোধের বাইরে তেমন কোলাহলমুখর ছবিচিত্র নেই। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ‘এবারের উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবেনা। এরপরও আনুষ্ঠানিকতার জন্যই আমাদের নির্বাচন করতে হবে।’ (কালের কণ্ঠ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯) নির্বাচনী তামাশায় আমাদের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট। আমরা জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ভোট ডাকাতির চিত্রকে উন্মোচিত করেছি। কলঙ্কিত নির্বাচনের দগদগে ঘা শুকানোর জন্য ব্যবস্থা না করেই চট জলদি আরেকটি প্রহসনের নির্বাচনে প্রার্থী দেয়া সমিচীন নয় বলেই এবারের কথিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার জন্য আমরা বাম গণতান্ত্রিক জোট সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এই নির্বাচনে অংশ না নেয়ার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। আমরা বহুদিন থেকে বলে এসেছি যে, জনগণের অংশগ্রহণে স্থানীয় স্বশাসনের বিভিন্ন স্তরের সংস্থার প্রচলন আমাদের সমাজে দীর্ঘদিনের। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা এসব সংস্থাকে বারবার ব্যবহার করেছে তাদের ক্ষমতার ‘খুঁটি’ হিসেবে কাজে লাগানোর জন্য। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংবিধানে স্বশাসিত ‘স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা’ লিখিতভাবে স্বীকৃতি পেলেও, স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও শাসক শ্রেণি এখন পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন করেনি। স্থানীয় সরকার বলে যা দাবি করা হয় তা বাস্তবে কেন্দ্রীয় শাসনে নিয়ন্ত্রিত জগাখিচুড়ি এক ব্যবস্থার নামান্তর মাত্র। সংবিধানের ৩য় পরিচ্ছেদের অনুচ্ছেদ ৫৯/৬০ ধারা মতে ইংরেজিতে খড়পধষ এড়াবৎহসবহঃ বলা হলেও বাংলা করা হয়েছে ‘স্থানীয় শাসন’। তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের ক্ষমতায়ন সম্ভব করার জন্য প্রয়োজন স্থানীয় সরকার। কিন্তু বিভাগীয় পর্যায়ে কোন জনপ্রতিনিধিত্ব নেই। জেলায় প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নাই। উপজেলায়, ইউনিয়নে নির্বাচিত শাসন কাঠামো অসম্পূর্ণ এবং স্বায়ত্ত্বশাসিত হওয়ার বদলে আমলানির্ভল। এগুলো পার্লামেন্টারি পদ্ধতির সঙ্গেও অসঙ্গতিপূর্ণ। বাস্তবে এগুলো কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার বর্ধিত বাহুরূপে সম্প্রসারিত। পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনসমূহও স্থানীয় সরকার কাঠামো বিন্যাসের সঙ্গে সমন্বয়হীন ও কোথাও কোথাও সাংঘর্ষিক। এই সকল কথিত স্থানীয় সরকারে জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নানা ছুতোয় একজন আমলা উপ-সচিবের দ্বারা বরখাস্ত করার ব্যবস্থা করে রেখেছে। এটাও জনপ্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
একদিকে স্থানীয় সরকারের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট পাওয়া যায় না। অন্যদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আমলা-প্রশাসন-এই দুই তরফের খবরদারি-নিয়ন্ত্রণ এসব সংস্থার কর্তৃত্বকে জরবদখল করে রেখেছে। স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন ও স্থানীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতীয় বাজেটের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ স্থানীয় সরকারের জন্য সংবিধিবদ্ধভাবে বরাদ্দ রাখার বিধান করা, সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণের মতামত নিয়ে তৃণমূল থেকে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রক্রিয়া চালু করা, সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং কঠোর হাতে সব স্তরে দুর্নীতি বন্ধ করার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার-ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন ও রাষ্ট্র-প্রশাসনের গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের জন্য এসব পদক্ষেপ অপরিহার্য।
স্বশাসিত স্থানীয় সরকার সংস্থাসমূহকে দারিদ্র্য বিমোচন, বরাদ্দকৃত অর্থ প্রকৃত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো, বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিশু-নারী-বয়স্কদের জন্য সামাজিক-আর্থিক সহায়তার নিশ্চয়তা বিধান, সমাজ ও পরিবেশবান্ধব গ্রাম-উন্নয়ন, অপসংস্কৃতি ও নৈরাজ্য দূর করে তারুণ্যের বিকাশসহ পুরো সমাজকে অগ্রগতির ধারায় নিয়ে আসা, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, ইজারাদার, দাদন ব্যবসায়ীসহ দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, শিল্প-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য লালনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনকে ‘আমলাতান্ত্রিক ভবন’ নয়, ‘জনগণের ভবন’ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করতে হবে। এসব কাজ করতে হলে স্থানীয় সরকারে টাউট, মাস্তান, কায়েমি স্বার্থবাদী মহলের দাপট ও খবরদারি বন্ধ করতে হবে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই কেবল এই কঠিন কাজটি সফল করা সম্ভব হতে পারে।
সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ি জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। জনগণ তাদের ক্ষমতা চর্চা করে তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। সেজন্য জনগণের কল্যাণে ও স্বার্থে আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণের জন্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের তত্ত্বাবধানের জন্য জাতীয় সংসদ প্রয়োজন। আর স্থানীয় উন্নয়নের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজন স্থানীয় সরকার। লুটেরা দুর্বৃত্তায়িত রাজনৈতিক দলসমূহ স্থানীয় পর্যায়ে দুর্বৃত্তদের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্পণ করেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতিতে হাত পাঁকিয়ে তারা আরও শক্তিশালী হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে স্থানীয় পর্যায়ে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সঙ্গে দুর্নীতির ভয়াবহ প্রকোপ কায়েমী স্বার্থ চক্রকে এতোটা প্রভাব ও প্রতাপশালী করে রেখেছে যা সত্যিকার গণপ্রতিনিধিত্বশীল শাসনকাঠামো গঠন ও পরিচালনাকে দুরূহ করেছে।
সবকিছু মিলিয়ে আমরা নির্বাচনী প্রহসনের পুনরাবৃত্তি পরিহার, অকার্যকর ব্যবস্থাকে আরও গণবিরোধী শক্তিতে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকছি। ব্যবস্থা বদলের মাধ্যমে অবস্থা বদলের আন্দোলনে জনজীবনের সকল সমস্যা যুক্ত করে জনগণকে উৎসাহিত ও অংশগ্রহণ করার কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেয়ার সংগ্রামের ডাক দিয়ে ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম রুখতে ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শক্তি গড়তে শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতির জন্য আবারও আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বজলুর রশীদ ফিরোজ
সমন্বয়ক
বাম গণতান্ত্রিক জোট

ছবি: রতন কুমার দাস


Comentários
0 comentários


  • Enviar Comentário
    Para Enviar Comentários é Necessário estar Logado.
    Clique Aqui para Entrar ou Clique Aqui para se Cadastrar.


Ainda não Foram Enviados Comentários!


Copyright 2019 - Jornal Pacifista - All rights reserved. powered by WEB4BUSINESS

Inglês Português Frances Italiano Alemão Espanhol Árabe Bengali Urdu Esperanto Croata Chinês Coreano Grego Hebraico Japonês Hungaro Latim Persa Polonês Romeno Vietnamita Swedish Thai Czech Hindi Você